
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কথা২৪
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে উত্তেজনা: হরমজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার শঙ্কার কারণে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলে সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের সতর্কবার্তা: ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) একটি জরুরি বার্তায় জানায়, হরমজ প্রণালীতে বর্তমানে ব্যাপক নৌ-তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা এবং সামরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে বিশাল যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপট: মার্কিন নৌ-অবরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গানবোট থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের দিকে গুলিবর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা এই প্রণালীকে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখবে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন।
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব: হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। এই পথের মধ্যে কোনো বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রিটেনের পাল্টা ব্যবস্থা: উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটেন জানিয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক এই রুটটি নিরাপদ রাখতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতে সামরিক শক্তি মোতায়েন করবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ইরানের আক্রমণাত্মক মনোভাব রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে শক্তিশালী এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।